| বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ইচ্ছা অনুযায়ীই হতে হবে ফারাক্কা চুক্তি: মির্জা ফখরুল | ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-05-2026 ইং
  • 66200 বার পঠিত
বাংলাদেশের ইচ্ছা অনুযায়ীই হতে হবে ফারাক্কা চুক্তি: মির্জা ফখরুল | ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশের অভিপ্রায় অনুযায়ীই হতে হবে ফারাক্কা চুক্তি: মির্জা ফখরুল

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের স্বার্থ ও অভিপ্রায়কে শতভাগ প্রাধান্য দিয়ে ভারতের সাথে গঙ্গার পানিবণ্টন বা ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যথায় ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ ব্যাহত হতে পারে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের প্রতি স্পষ্ট বার্তা ও ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী দিনগুলোতে নদী ও পানিবণ্টন কূটনীতি নিয়ে সরকারের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরেন:

  • চুক্তি নবায়ন ও শর্ত: মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন চুক্তি অবশ্যই বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে এবং দেশের জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী হতে হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো চুক্তি করতে দেওয়া হবে না।

  • পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ: ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ক্ষতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের নেওয়া ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের সিদ্ধান্তকে তিনি একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। জনগণের স্বার্থে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

  • অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্য: ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে ভারত যে অন্যায় করছে, তা বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার শামিল। এই চক্রান্ত রুখতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও স্থিতিশীলতার আহ্বান

সরকারের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার ও চক্রান্তের বিষয়ে নেতাকর্মী ও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন:

  • বর্তমান তারেক রহমানের সরকার জনগণের দ্বারা সম্পূর্ণ বৈধ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার।

  • একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ও কয়েকজন নেতা সরকারের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

  • এ দেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র অর্জন করেছে, তাই কোনো চক্রান্তকেই মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। এই অপশক্তিকে রুখতে জনগণকে সংগঠিত হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।


গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি ও বাংলাদেশের নদী রাজনীতি: ১৯০০ থেকে ২০২৬

২০২৬ সালে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার এই সন্ধিক্ষণ এবং ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার হাইড্রো-পলিটিক্স (নদী রাজনীতি) ও জাতীয়তাবাদের এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা।

  • বিংশ শতাব্দীর শুরু ও অবাধ প্রবাহ (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে গঙ্গা বা পদ্মা নদীতে কোনো কৃত্রিম বাধা ছিল না। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কিংবা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময়ও নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ এ অঞ্চলের কৃষি ও জীবিকাকে সচল রেখেছিল। ১৯০০ সালের সেই মুক্ত নদীমাতৃক বাংলা থেকে ২০২৬ সালের এই শুষ্ক মরুকরণের বাস্তবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

  • ১৯৭৬-এর লংমার্চ ও ১৯৯৬-এর চুক্তি: ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ ছিল আন্তর্জাতিক নদীর ওপর ভাটির দেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম বড় গণআন্দোলন। এর দীর্ঘ ২০ বছর পর ১৯৯৬ সালে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মেয়াদ এই ২০২৬ সালে এসে শেষ হচ্ছে।

  • ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর নতুন কূটনীতি: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের এই মে মাসে সরকারের পক্ষ থেকে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের তড়িৎ সিদ্ধান্ত এবং ভারতের প্রতি মন্ত্রীর এই কড়া বার্তা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ এখন আর নদী কূটনীতিতে কেবল অনুনয়-বিনয়ের নীতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং নিজস্ব বিকল্প তৈরিতে মনোযোগী।

  • ২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই আদিম পানি ব্যবস্থাপনার আমল থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক ড্যাম ও ব্যারেজ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যুগে এসে বাংলাদেশ নিজের পানির অধিকার রক্ষায় অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো (পদ্মা ব্যারেজ) নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসের এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও জলবায়ুগত পরিস্থিতিতে এই প্রকল্প বাংলাদেশের টিকে থাকার লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার।

विश्लेषण ও উপসংহার

ইতিহাস সাক্ষী, ভাটির দেশের জীবনরেখা সবসময় উজানের দেশের সদিচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। ১৯০০ সালের সুজলা-সুফলা রূপ থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান শীর্ণ রূপ—নদীগুলোর এই করুণ দশা আমাদের পরিবেশগত বিপর্যয়কে স্পষ্ট করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই গঙ্গা চুক্তি নবায়নের সময় বাংলাদেশকে তার অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। একই সাথে অভ্যন্তরীণভাবে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ বাস্তবায়ন করে নিজস্ব পানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোই হবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।


সূত্র: ১. ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রধান অতিথির ভাষণ (১৬ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি (১৯৯৬) এবং দক্ষিণ এশিয়ার আন্তর্জাতিক নদী আইন ও ইতিহাস (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency